Site icon Jamuna Television

দক্ষিণ আফ্রিকায় এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে ২৫৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্তের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে করোনার বিস্তার। রোগীর সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে দেশটির হাসপাতালগুলো। এরইমাঝে, বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রীতিমতো বোমা ফাটালেন দেশটির কোভিড-১৯ মোকাবেলা কমিটির স্বাস্থ্যবিদরা। জানান, মাত্র এক সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে ২৫৫ শতাংশ।

দক্ষিন আফ্রিকার আঞ্চলিক কোভিড নাইনটিন ব্যবস্থাপক ডক্টর থেইরনো বালডে জানান, গেলো এক সপ্তাহে আশঙ্কাজনক হারে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তির পরিমাণ বেড়েছে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়। সেটি গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২৫৫ শতাংশ বেশি। তবে, রোগীদের স্বাস্থ্যগত জটিলতা না থাকায় আইসিইউগুলোতে নেই খুব বেশি চাপ।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ওমিক্রনে আক্রান্ত মোট রোগীদের ৪৬ শতাংশই আফ্রিকান।

ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক সমন্বয়ক রিচার্ড মিহিগো বলেন, ওমিক্রন শনাক্তের মাত্র দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরুলো। দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা প্রথম ভ্যারিয়েন্টটির ঘোষণা দিলেও বর্তমানে ৬০টির মতো দেশে মিলেছে ধরনটি। সেই তালিকার ১০ দেশই আফ্রিকার। বিশ্বব্যাপী মোট ওমিক্রন আক্রান্ত এক হাজার রোগীর ৪৬ শতাংশই এ মহাদেশের নাগরিক।

একে তো স্বাস্থ্যসেবা সংকট। তার ওপর কোনঠাসা পরিস্থিতিতে মহাদেশটির প্রতি অন্যান্যদের বিমাতাসুলভ আচরণে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, যেসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, সেসবের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি, বন্ধুত্ব-ভ্রাতৃত্ববোধকেও গুরুত্ব দেয়নি পশ্চিমারা। মহামারি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখালো কিভাবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করতে হয়। নিজেদের রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর নেয়া উদ্যোগে যথেষ্ট ফাঁকফোকর আর দুর্বলতা রয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বি১১৫২৯ বা ওমিক্রনের উপস্থিতি জানান দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একইসাথে বলা হয়, অন্যান্য ধরণগুলোর তুলনায় এটি কয়েকগুণ বেশি সংক্রামক। মহামারির নতুন ধাক্কার আতঙ্কে বহু দেশ আফ্রিকা মহাদেশের ওপর জারি করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।

Exit mobile version