ইন্দোনেশিয়া আগ্নেয়গিরি ট্রাজেডি: সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

|

ভয়াবহ অগ্নুৎপাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়রা, তবে রক্ষা পায়নি ঘর-বাড়ি।

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে আগ্নেয়গিরিতে নিহতের ঘটনায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সঠিক সময়ে সতর্ক বার্তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে প্রাণহানির সংখ্যা- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।  যদিও কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় গভর্নরকে আগেই দেয়া হয়েছিলো সতর্কবার্তা।

জাভায় আগ্নেয়গিরির ভয়াবহতায় ছাই হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। মাথা গোজার ঠাঁই নেই জাভা দ্বীপের হাজার হাজার মানুষের। সরকারি হিসেবে আকস্মিক অগ্নুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ ঘরবাড়ি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গাদাগাদি করে ঠাঁই নিয়েও অসহায় গ্রামবাসী। সেখানেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির আগে কোন সতর্কতাই পাননি তারা।

অগ্নুৎপাতে ঘর হারানো এক নারী বলেন, দুর্ঘটনার আগে এখানে কেউ আসেনি, কেউ সতর্ক করেনি আমাদের। যদি সরকার জানাতো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে, তাহলে হয়তো এতো প্রাণহানি হতো না। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

যদিও দেশটির আগ্নেয়গিরি বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, দ্বীপের গভর্নরকে অগ্নুৎপাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিলো।

ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি বিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা সম্পর্কে ১ ডিসেম্বরই আমরা আগাম বার্তা পেয়েছিলাম। গরম ছাইও শনাক্ত করেছিলাম, এ সংক্রান্ত একটি বার্তাও পাঠিয়েছিলাম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ২ ডিসেম্বর স্থানীয় গভর্নের কাছে এ নিয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এরপরও সাধারণ মানুষ কেন সতর্কবার্তা পায়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেশটির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বীপের বেশির ভাগ মানুষের কাছেই এখনও পৌঁছায়নি ইন্টারনেট সেবা। তাই, এমন জায়গায় তথ্য প্রচারের জন্য অনলাইন মাধ্যম মোটেও কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে না।

ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ মিরজাম আব্দুর রাচমান বলেন, এমনভাবে সতর্কতামূলক তথ্যগুলো পাঠানো উচিৎ যেন তা সময়মতো সবার কাছে পৌঁছায়। কিন্তু এখানে সব এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবস্থা নেই। কিভাবে তারা মেসেঞ্জারের বার্তা পাবে? তাই অন্য উপায় বের করতে হবে যেন দ্রুত সময়ে সবাই সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ছোট বড় ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানে কমপক্ষে ১৪৭টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে ৭৬টি।

/এসএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply